সময়ের পরিবর্তনে গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পারিবারিক বন্ধন ও সহজ-সরল জীবনযাত্রা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা ও সামাজিক সম্পর্কের চিত্র।
এক সময় গ্রামের সকাল মানেই ছিল কুয়াশায় মোড়ানো সবুজ ধানের মাঠ, তালগাছের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া রোদ আর পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙা। দুপুরে পুকুরে ভাসত শাপলা, কচুরিপানার ফাঁকে শিশুদের সাঁতারের হাসি ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। বিকেলে গরুর ঘণ্টার শব্দ আর সন্ধ্যায় জোনাকির আলোয় মুখর থাকত পুরো গ্রাম।
রাত নামলে চাঁদের আলোয় আলোকিত উঠোনে বসে ভাইবোনেরা গল্প করত, বড়দের কাছে শুনত নানা কৌতূহলের উত্তর। বাবার সঙ্গে হাটবাজারে যাওয়া, পাঁচ টাকা চাওয়ার আনন্দ কিংবা মায়ের সঙ্গে হেঁটে নানার বাড়ি যাওয়ার স্মৃতি ছিল শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পারিবারিক সম্পর্কও ছিল গভীর ও আন্তরিক। স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে ছিল হৃদ্যতা ও মমত্ববোধ। একসঙ্গে গল্প করতে করতে রাত কেটে যেত, সম্পর্কের বন্ধন ছিল দৃঢ় ও প্রাণবন্ত।
তবে সময়ের পরিবর্তনে এসব দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল হয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই পরিবারকে সময় না দিয়ে অধিকাংশ সময় কাটাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগতে। Facebook ও YouTube এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে, ফলে বাস্তব সম্পর্কের গভীরতা কমছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে হাঁটার অভ্যাস কমে গেছে। এতে শারীরিক পরিশ্রম হ্রাস পাওয়ায় ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, আধুনিক বসতি ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে কমে যাচ্ছে কৃষিজমি ও সবুজ মাঠ। পরিকল্পনাহীনভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে ধানের জমি ও রবিশস্যের ক্ষেত হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, পরিবারকে সময় দেওয়া, বাস্তব সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া, শরীরচর্চা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে মনোযোগী হলেই হারিয়ে যাওয়া সেই সুন্দর ভারসাম্য কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
লগইন
ছবিঃ বিডিসিএন২৪
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!