আর কয়েকদিন পরই বিশ্বজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে এবারও পৃথিবীর সব দেশের মুসলমানদের রোজার সময় এক হবে না। কোনো দেশে রোজার সময়কাল হবে দীর্ঘ, আবার কোথাও তুলনামূলক কম।
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে দিনের সময় দীর্ঘ হওয়ায় মুসলমানদের দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে। বিপরীতে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে দিন ছোট হওয়ায় রোজার সময় হবে কম।
বিশ্বের দীর্ঘতম রোজার দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উত্তর ইউরোপের ফিনল্যান্ড। রাজধানী হেলসিংকি ও আশপাশের এলাকায় মুসলমানদের প্রায় ১৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট রোজা পালন করতে হবে। একইভাবে আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডেও রোজার সময় প্রায় ১৭ ঘণ্টা হতে পারে।
এ ছাড়া স্কটল্যান্ড, কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও ইতালিতে রোজার সময়কাল ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে থাকবে। যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্সে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা রোজা পালন করা হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজার সময় তুলনামূলক কম হবে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ ও চিলির পুয়ের্তো মন্টেতে সবচেয়ে কম সময়, প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট রোজা রাখতে হবে। আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে রোজার সময় হবে ১২ থেকে সাড়ে ১২ ঘণ্টা।
এশীয় দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে রোজার সময়কাল হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় তা হবে সাড়ে ১২ ঘণ্টার মতো। মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতে গড়ে ১৩ ঘণ্টা রোজা পালন করা হবে।
বাংলাদেশে এবার রমজানের রোজা রাখতে হবে প্রায় ১৩ ঘণ্টা। প্রথম দিন সাহরির শেষ সময় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিট এবং ইফতার করা হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশ নিরক্ষরেখা থেকে যত দূরে অবস্থিত, দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য তত বেশি হয়। এ কারণেই উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে রোজার সময়ের তারতম্য বেশি দেখা যায়।
তবে ২০২৬ সালে রমজান মাস শীতকালে পড়ায় উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে আগের কয়েক বছরের তুলনায় রোজা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব অঞ্চলে সূর্য দীর্ঘ সময় অস্ত যায় না বা দিনের সময় অস্বাভাবিক দীর্ঘ, সেখানে শরিয়াহ অনুযায়ী মক্কা বা নিকটবর্তী কোনো দেশের সময় অনুসরণ করে রোজা পালন করা হবে।
লগইন
২০২৬ সালে সবচেয়ে বেশি সময় ও কম সময় রোজা রাখবে যে দেশ | ছবি সংরহীত
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!